পবিত্র মিলাদুন্নবী (সা:) পালনের বিধান

 প্রথম পর্ব-


পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) পালন করার বিধান-

★★★ ঈদে মিলাদুন্নবি পরিচিতি:

★★শাব্দিক পরিচয়:

‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ শব্দটি যৌগিক শব্দ। যা তিনটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। যথা-

এক. ঈদ 

দুই. মিলাদ 

তিন. নবি। 

★ প্রথমত: ঈদ শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ উৎসব, আনন্দ, খুশি।

লিসানুল আরাব প্রণেতা বলেন-

العيد كل يوم فيه جمع ‘

সমবেত হবার প্রত্যেকদিনকে ঈদ’ বলা হয়। 

মুফতি আমীমূল ইহসান (র)বলেন-

العيد كل يوم فيه جمع او تذكار لذي فضل

“কোন মর্যদাবান ব্যক্তিকে স্মরণের দিন বা সমবেত হওয়ার দিনকে ঈদের দিন বলা হয়।”

আবার ঈদ শব্দটির অর্থ ফিরে আসা। সুতরাং যে বস্তু বারবার ফিরে আসে তাকে ঈদ বলা যায়।

মানুষ যখনই দুরবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেয়ে স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলেছে তখনই স্বধর্মীয়, স্বগোত্রীয় লোকদের নিয়ে করেছে আনন্দানুষ্ঠান। এ আনন্দানুষ্ঠানকে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ভাষায় বলা হয়েছে ঈদ (عيد)। 

আল-মুন্জিদ অভিধানে বলা হয়েছে -

ঈদ বলতে বুঝায় ‘কোন মর্যাদাবান ব্যক্তি অথবা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমবেত হওয়ার দিন বা স্মৃতিচারণের দিবসই ঈদ।আল্লাহর নিয়ামত পাবার দিনকে ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমেও নিয়ামতের শোকরিয়া করা যায়। যেমন- হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছিলেন- 

ربنا أنزل علينا مائدة من السماء تكون لنا عيدا لاولنا واخرنا واية منك

“হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আসমান হতে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করুন; এটি আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য হবে ঈদ স্বরূপ এবং আপনার নিকটি হতে নিদর্শন হবে।”

[আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ১১৪।]

কেউ কেউ বলেছেন, ১২ ই রবিউল আওয়ালকে এজন্যই ঈদ বলা হয় যে, প্রতিবছর নব আনন্দ নিয়ে তা ফিরে আসে।’

★দ্বিতীয়ত: মিলাদ শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ: জন্মকাল, জন্মদিন। এ অর্থে ‘মাওলিদ’ শব্দের ব্যবহার আরবি ভাষায় অত্যাধিক। 

আল-মুনজি অভিধানে  মিলাদ ميلاد শব্দের অর্থ وقت الولادة জন্ম সময়। ফারসিতে বলা হয়-"যামানুত তাওলুদ"

শব্দটি মিলাদ, মাওলুদ ও মাওলিদ রূপে ব্যবহ্রত হয়।

★তৃতীয়ত: নবি; এখানে নবি বলতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লামকে বুঝানো হয়েছে। 

সুতরাং ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ অর্থ নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা’র আগমন উপলক্ষে আনন্দ উদযাপন।

★★ পারিভাষিক পরিচয়:

এ ধরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা’র আগমন উপলক্ষে আনন্দিত হওয়া এবং এ অদ্বিতীয় নিয়ামত পাবার কারণে সৎকাজ ও ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন করাকে ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলা হয়।


★★★ঈদে মিলাদুন্নবি উদযাপনঃ

ঈদে মিলাদুন্নবি উদযাপন করা বৈধ ও উত্তম আমল, যা পবিত্র কুরআন, হাদিস ও উলামায়ে আকাবিরগণের আমালিয়াত দ্বারা প্রমাণিত। 

★★★পবিত্র কুরআন থেকে কয়েকটি দলিল তুলে ধরা হল-

আল্লাহ তা'য়লা পূরববর্তী আসমানি কিতাবসমুহে রাসুল সা: এর আগমনের শুভ সংবাদ দিয়েছেন। রাসুল সা: এর জীবন বৃত্তান্ত, অনেক গুণাবলী,  বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। যার অনেক প্রমাণ  পাওয়া যায়। যেমন- রাসুল সা: এর বাবার সাথে তৎকালীন অনেক মহিলাদের বিবাহের আগ্রহ, বুহাইরা কর্তৃক শুভসংবাদ, ওরাকা বি নওফলের শুভসংবাদ ইত্যাদি। অনুরূপভাবে কুরআনে পাকে পূর্বেকার নবী রাসুলগণের জন্মবৃত্তান্ত আলোচনা করেছেন। পবিত্র কুরআনে পঁচিশজন নবি রাসূলের মধ্যে হযরত আদম, হযরত মূসা, হযরত ইহইয়া, হযরত ঈসা ও হযরত মুহাম্মদ আলাইহিমুস সালামের জন্ম-বৃত্তান্ত বর্ণনা করেছেন। যেমন-হযরত ইহইয়া আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন-

وسلام عليه يوم ولد

“তাঁর প্রতি সালাম, যেদিন তিনি (ইহইয়া আ.) জন্মলাভ করেন ।” সূরা-মরিয়ম, আয়াত-১৫

★আল্লাহ তা'য়লা কুরআনের অনেক স্থানে রাসুল সা: এর আগমনের সংবাদ তথা জন্মবৃত্তান্ত আলোচনা করেছেন। নিম্নে কয়েকটি তুলে ধরা হলো।

১.সূরা-আম্বীয়া, আয়াত-১০৭

وما أرسلناك إلا رحمة للعالمين

“আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।”

প্রখ্যাত মুফাসসির আল্লামা মাহমূদ আলূসী আলাইহির রাহমাহ প্রমুখের মতে “রহমত” হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি নাম। এ ছাড়াও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন বিশ্ববাসীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত। এতে কারো দ্বিমত নেই। 

২.সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ১৬৪

ولقد من الله على المؤمنين إذ بعث فيهم رسولا من أنفسهم

“আল্লাহ মুমিনদের ওপর অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাঁদের নিজেদের মধ্য থেকে তাঁদের নিকটি রাসূল প্রেরণ করেছেন।”

৩.সুরা তাবাহ, আয়াত ১২৮

لقد جاءكم رسول من أنفسكم عزيز عليه ما عنتم حريص عليكم بالمؤمنين رؤف رحيم

“অবশ্যই তোমাদের (আরবগণ) মধ্য থেকেই (বংশ থেকে) তোমাদের নিকট এসেছেন এক রাসূল। তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু।'

৪.সূরা হুদ, আয়াত-১২০

 کُلًّا نَّقُصُّ عَلَیۡکَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِہٖ فُؤَادَکَ ۚ وَ جَآءَکَ فِیۡ ہٰذِہِ الۡحَقُّ وَ مَوۡعِظَۃٌ وَّ ذِکۡرٰی لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ-

'আর রাসূলদের কাহিনী থেকে সবকিছু আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করছি এজন্য যে, সেসবের দ্বারা আমরা আপনার চিত্তকে বলিষ্ঠ করবো।' 

আমরা দেখলাম, উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নবী ও রাসূলদের আলোচনাকে মোমিনদের ঈমান ও শক্তিবর্ধক হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ আয়াতে নবী-রাসূলদের জীবনী আলোচনা করার বৈধতা ফুটে ওঠে।

★আল্লাহ তা'য়লা মানুষকে দয়া ও অনুগ্রহ পাওয়ার পর আনন্দিত হওয়ার আদেশ প্রদান করেন-

১.সূরা ইউনূস, আয়াত ৫৮

قل بفضل الله وبرحمته فبذلك فليفرحوا هو خير مما يجمعون 

“হে রাসুল! আপনি বলুন, আল্লাহর অনুগ্রহ(ফদ্বল) ও দয়াকে (রহমত) স্মরণ করে সেটার ওপর তারা যেন খুশি প্রকাশ করে। তা তাদের সঞ্চয়কৃত সমস্ত ধন-সম্পদ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর।”

মুফতি শফী (রহ.) বলেন, মানুষের কর্তব্য হলো আল্লাহ তায়ালার রহমত অনুগ্রহকেই প্রকৃত আনন্দের বিষয় মনে করা এবং একমাত্র তাতেই আনন্দিত হওয়া। (মারেফুল কোরআন : ৬১১ পৃষ্ঠা)।

আল্লাহ তায়ালার নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপনের একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হল নিয়ামতের ওপর খুশি উদযাপন করা। 

এ আয়াতে মহান রাব্বুল আলামীন খুশি উদযাপনের দুটি উপকরণ সাব্যস্ত করেছেন। একটি হল “ফদ্বল” ( فضل) আর অপরটি হল “রহমত” (رحمة)। 

অধিকাংশ তাফসীরবিদেরা স্ব-স্ব তাফসীর গ্রন্থের তাফসিরকারকদের শিরোমণি হযরত ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণনা করেন যে, এখানে “ফদ্বল” দ্বারা জ্ঞান এবং “রহমত” দ্বারা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদ্দেশ্য। 

আল্লামা ইবনু জাওযী (র:) বলেন- 

ان فضل الله العلم ورحمته محمد صلى الله عليه وسلم رواه الضحاك

“নিশ্চয় আল্লাহর “ফদ্বল” হল জ্ঞান আর “রহমত” হল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম; যা ইমাম দাহ্হাক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেছেন। 

আল্লামা তিবরিসী উল্লিখিত আয়াতের অর্থ করতে গিয়ে বলেন- 

فافرحوا بفضل الله عليكم ورحمته لكم بإنزال هذا القرآن وإرسال محمد إليكم فانكم تحصلون بهما نعيما دائما مقيما هو خير لكم من هذه الدنيا الفانية

“তোমাদের প্রতি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করে এবং কুরআন অবতীর্ণ করে আল্লাহ তায়ালা তোমদের ওপর যে দয়া ও করুণা করেছেন, তাতে তোমরা খুশি উদযাপন কর। কেননা উভয়ের (ফদল ও রহমত) মাধ্যমে নিশ্চয় তোমরা চিরস্থায়ী নিয়ামত অর্জন করবে, যা এ নশ্বর পৃথিবী থেকে তোমাদের জন্য অধিকতর শ্রেয়।”

ইমাম বাক্বির রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু প্রখ্যাত মুফাসসির হযরত ক্বাতাদাহ্, হযরত মুজাহিদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা প্রমুখ থেকে বর্ণনা করেন যে “ফদ্বলুল্লাহ”(فضل الله) দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুঝানো হয়েছে। 

★আল্লাহ তা'য়লা তাঁর নিয়ামত ও নিদর্শনসমুহকে স্মরণ করতে আদেশ প্রদান করেন। আর যারা আল্লাহর নিয়ামত, নিদর্শনসমুহকে সম্মান করে স্মরণ করে আল্লাহ তা'য়লা তাদেরকে নিজে স্মরণ করেন এবং পুরুষ্কৃত করেন। আর যারা আস্বীকার করে তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর আযাবের হুশিয়ারী। আর যারা আল্লাহর নিদর্শনসমুহকে স্মরণ করে তারই হচ্ছে  মুত্তাকী। যেমন-

১.সুরা মায়েদা, আয়াত-৯

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اذۡکُرُوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ

 'হে ঈমানদারগন! তোমরা সেই নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যা তোমাদের আল্লাহ তায়ালা দান করেছেন।' হজরত ওমর (রা.) বলেন যে, এই নেয়ামত দ্বারা মুহাম্মদ (দ.) কে বোঝানো হয়েছে। 

২.সূরা- ইবরাহীম, আয়াত নং- ৫

 وَ ذَکِّرۡہُمۡ بِاَیّٰىمِ اللّٰہِ-

'তাদের (মানুষ) আল্লাহর দিনগুলো সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিন।' 

 এ আয়াতে 'আল্লাহর দিনগুলো' হলো সেসব দিন, যাতে বড় বড় ঘটনা ঘটেছিল বা এমনসব দিন যেগুলোতে আল্লাহ পাক তাঁর সৃষ্টিকুলের প্রতি তাঁরই বড় নেয়ামত তথা আশীর্বাদ বর্ষণ করেছিলেন। নবী পাকের জন্মদিন বড় ঘটনার অন্যতম।

৩. সূরা-দোহা, আয়াত-১১

وَ اَمَّا بِنِعۡمَۃِ رَبِّکَ فَحَدِّثۡ

'এবং আপনার প্রতিপালকের নেয়ামতের বেশি বেশি আলোচনা তথা প্রচার-প্রসার করুন।'  এ আয়াতে রাসূলুল্লাহ (দ.) এর সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) 'নেয়ামত' শব্দটির ব্যাখ্যায় বলেন, 'আয়াতে উলি্লখিত 'নেয়ামত' শব্দটি দ্বারা নবুয়ত ও দ্বীন ইসলামকে বোঝানো হয়েছে।' 

৪.সূরা-বাকারা, আয়াত নং ১৫২

فاذكروني اذكركم واشكروا لي ولاتكفرون

“সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব। তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, অকৃতজ্ঞ হয়ো না।”

৫.সূরাঃ ১৪. ইবরাহীম, আয়াত নং- ৭

وَ اِذۡ تَاَذَّنَ رَبُّکُمۡ لَئِنۡ شَکَرۡتُمۡ لَاَزِیۡدَنَّکُمۡ وَ لَئِنۡ کَفَرۡتُمۡ اِنَّ عَذَابِیۡ لَشَدِیۡدٌ

"আর স্মরণ করুন, যখন তোমাদের রব ঘোষণা করেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে আরো বেশী দেব আর অকৃতজ্ঞ হলে নিশ্চয় আমার শাস্তি তো কঠোর।"

৬.সুরা নমল, আয়াত -৪০

وَ مَنۡ شَکَرَ فَاِنَّمَا یَشۡکُرُ لِنَفۡسِہٖ ۚ وَ مَنۡ کَفَرَ فَاِنَّ رَبِّیۡ غَنِیٌّ کَرِیۡمٌ-

আর যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে তো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নিজেরই কল্যাণের জন্য, আর যে কেউ অকৃতজ্ঞ হবে, সে জেনে রাখুক যে, আমার রব অভাবমুক্ত, মহানুভব।

৭.সুরা হজ, আয়াত-৩৬

 مِّنۡ شَعَآئِرِ اللّٰہِ لَکُمۡ فِیۡہَا خَیۡرٌ-

'আর যে আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করবে, সেটা তার কলবে তাকওয়ার পরিচয়বাহক।' 

'হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা' নামক কিতাবে বলা হয়েছে_ আল্লাহর নিদর্শনাবলির মধ্যে সবচেয়ে বড় নিদর্শন হচ্ছে চারটি- ১. কোরআন মাজিদ, ২. কাবা শরিফ, ৩. নবী মুহাম্মদ (দ.) ও ৪. নামাজ ফায়েদা : নবীকে তাজিম করা তাকওয়ার পরিচয় বাহক। আর মিলাদের মাধ্যমে নবীর মহব্বত ও তাকওয়া আরও বৃদ্ধি পায়।

৮.সুরা হজ, আয়াত-৩৬

 وَ مَنۡ یُّعَظِّمۡ شَعَآئِرَ اللّٰہِ فَاِنَّہَا مِنۡ تَقۡوَی الۡقُلُوۡبِ-

" কেউ আল্লাহ্‌র নিদর্শনাবলীকে সম্মান করলে এ তো তার হৃদয়ের তাকওয়াপ্রসূত।"

এ থেকে বোঝা গেল যে, আল্লাহর নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপন করা প্রত্যেক মানুষের ওপর অপরিহার্য। 

শোকরিয়া জ্ঞাপনের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে যেমন আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতের বর্ণনা দেওয়া, নিয়ামতের ওপর আনন্দ উদযান করা, ঈদ উদযান করা ইত্যাদি।

সুতরাং প্রতিয়মান হয় যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ববাসীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ ও নিয়ামত। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা এ অনুগ্রহ তথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'কে পাবার ওপর খুশি উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'কে পাবার দিন হল ‘মিলাদুন্নবি’ এবং ‘মিলাদুন্নবি’ কে কেন্দ্র করে খুশি উদযাপন করাই হল ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ যা পালন করার নির্দেশ স্বয়ং আল্লাহই দিয়েছেন।

খুশি উদযাপনের ক্ষেত্রে সকল বৈধ পন্থা গ্রহণ করা শরিয়ত সম্মত। তাই মুসলিমগণ একত্র হয়ে মানুষের প্রতি আল্লাহর বড় কৃপার কথা তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এঁর আগমনের কথা স্মরণ করে, রাসুলের জীবন-বৃত্তান্ত বর্ণনা করে, ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে খানা-পিনার আয়োজন করে এবং দান-সদকা ইত্যাদির ব্যবস্থা করে। মোট কথা খুশি উদযাপনের বহিঃপ্রকাশ শরিয়ত সম্মত পন্থায় হলে তাতে কোন অসুবিধা নেই।

চলবে......


লেখক:

মুফতি মুহাম্মদ আল-আমিন

প্রভাষক (আরবি)

হযরত শাহজালাল ফাযিল মাদরাসা

ওসমানীনগর, সিলেট। 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাসুল (সা:) জন্ম ও বংশ পরিচয়।

শাওয়াল মাসের ফযিলত

মাসবুকের নামাযের নিয়ম কি?