পোস্টগুলি

মে, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

হিংসা

হিংসা মুহাম্মদ আল-আমিন  হিংসা-বিদ্বেষ একটি ভয়ানক সংক্রামক ব্যাধি। মানুষের হীন মনমানসিকতা, ঈর্ষাপরায়ণতা, সম্পদের মোহ, পদমর্যাদার লোভ-লালসা থেকে হিংসা-বিদ্বেষের উৎপত্তি ও বিকাশ হয়। হিংসা-বিদ্বেষ মুমিনের সৎ কর্ম ও পুণ্যকে তার অজান্তে কুরে কুরে খেয়ে ফেলে। মানুষ হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসা, শঠতা-কপটতা, অশান্তি, হানাহানি প্রভৃতি সামাজিক অনাচারের পথ পরিহার করে পারস্পরিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হবে এবং ইসলামের পরিশীলিত জীবনবোধে উদ্বুদ্ধ হবে—এটিই ধর্মের মূলকথা। ★★★হিংসা কি?  হিংসা হচ্ছে- অন্যের ভালো কিছু দেখে ঈর্ষায় কাতর হয়ে সেটা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কামনা করা। হিংসাকে আরবিতে ‘হাসাদ’ বলে।  ★★★হিংসার প্রকারভেদ- হিংসা দু প্রকার। যথা- (ক) প্রকৃত হিংসা, তা হচ্ছে; অন্যের নেয়ামতগুলো দূর হওয়ার আশা প্রকাশ করা। এটাকে হাসাদে মাযমুমা বলে। যা হারাম-অবৈধ।  (খ) রূপক হিংসা, তা হচ্ছে; অপরের নেয়ামত দূর হওয়ার আশা না করে অনুরূপ প্রাপ্তির আশা করা; এটাকে আরবিতে 'গিবতা' বলা হয়। ইবাদাতের ক্ষেত্রে হলে এটা প্রশংসনীয়, গুনাহের ক্ষেত্রে নিন্দনীয়-অবৈধ। ★★★হিংসার পারম্ভিককাল- ★সর্বপ্রথম হিংসার যাত...

সৎ স্বভাব সম্পর্কিত গুণাবলী

সৎ স্বভাব সম্পর্কিত গুণাবলী হাদিস শরীফে মানুষের সৎ স্বভাব সম্পর্কিত যে সব গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো থেকে কয়েকটি  হলোঃ ১। পিতামাতার সঙ্গে- তারা মুসলিম হোক আর অমুসলিম হোক-দয়া-মায়া ও বিনয় নম্রতায় পূরিপূর্ণ অতি উচ্চ মানের সৌজন্যমূলক আচরণ করা। ২। কারো ন্যায্য প্রাপ্য আটকে না রাখা। ৩। দরিদ্রতার ভয়ে কন্যা শিশুকে হত্যা না করা। ৪। মিথ্যা না বলা, মিথ্যা সাক্ষ্য না দেয়া। ৫। শির্ক না করা। ৬। অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা না করা। ৭। সলাত আদায় করা। ৮। যাকাত দেয়া। ৯। পবিত্র থাকা।  ১০। রক্তের সম্পর্ক বজায় রাখা। ১১। সন্তানদের আদর স্নেহ করা। ১২। পিতা-মাতার প্রিয়জন, স্বামী ও স্ত্রীর নিকটত্মায়ীদের প্রতি উত্তম ব্যবহার করা। ১৩। বিধবা, ইয়াতীম, গরীব ও দুঃস্থদের ভরণ পোষণের চেষ্টা করা ও তাদেরকে সাহায্য করা। ১৪। জীব জন্তুর প্রতি দয়া প্রদর্শন করা। ১৫। বৃক্ষ রোপন করা। ১৬। প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথিক ও অধীনস্থ দাস-দাসীর প্রতি উত্তম ব্যবহার করা। ১৭। মেহমানকে সম্মান করা। ১৮। হাসিমুখে মিষ্ট ভাষায় কথা বলা এবং অশালীনতা বর্জন করা। ১৯। সকল কাজে নম্রতা অবলম্বন করা। ২০। মু’মিনদেরকে পারস্পরিক সহযোগিতা করা ও সৎ পরাম...

শাওয়াল মাসের ফযিলত

 শাওয়াল মাসের ফযিলত মুফতি মুহাম্মদ আল-আমিন শাওয়াল হলো আরবি চান্দ্র বছরের দশম মাস। শাওয়াল অর্থ- উঁচু করা, উন্নতকরণ; উন্নত ভূমি; পূর্ণতা, ফলবতী, পাল্লা ভারী হওয়া, গৌরব করা, বিজয়ী হওয়া; প্রার্থনায় হস্ত উত্তোলন করা বা ভিক্ষায় হস্ত প্রসারিত করা। এটি হজ্জের তিন মাসের (শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজ) প্রথম মাস। এই মাসের প্রথম তারিখে ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ। পহেলা শাওয়ালে সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করা এবং ঈদের নামাজ পড়া ওয়াজিব। এ মাসের আমলের দ্বারা উন্নতি লাভ হয়, পূর্ণতা ফল লাভ হয়, নেকির পাল্লা ভারী হয়, গৌরব অর্জন হয় ও সাফল্য আসে, ফলপ্রার্থী আল্লাহর কাছে হস্ত সম্প্রসারিত করে প্রার্থনা করে, পূর্ণ মাস রোজা পালনের পর আরও কয়েকটি রোজা রাখে, প্রাপ্তির আনন্দে বিভোর হয়; ফরজ রোজা পালন শেষে নফল রোজার প্রতি মনোনিবেশ করে, আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি অর্জন করে, পরিপক্বতা ও স্থিতি লাভ করে। এ সবই হলো শাওয়াল মাসের নামের যথার্থতা। আল্লাহ তা'আলা কোরআন মাজিদে বলেন-  فَاِذَا فَرَغۡتَ فَانۡصَبۡ- وَ اِلٰی رَبِّکَ فَارۡغَبۡ- "যখন তুমি (ফরজ) দায়িত্ব সম্পন্ন করবে তখন উঠে দাঁড়াবে এবং তুমি (নফলের মাধ্যমে) তোমার রবের প্রতি অনুরা...