রাসুল (সা:) জন্ম ও বংশ পরিচয়।

 

★রাসুল (সা:) এর জন্ম:

হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর পিতার নাম আব্দুল্লাহ ও মাতার নাম আমেনা। তিনি ২৯ আগষ্ট বা ১২ই রবিউল আওয়াল ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহন করেন । প্রখ্যাত ইতিহাসবেত্তা মন্টগোমারি ওয়াট তাঁর পুস্তকে ৫৭০ সাল উল্লেখ করেছেন। তাঁর প্রকৃত জন্ম তারিখ নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। তাছাড়া মুহাম্মদ (সাঃ)নিজে কোনো মন্তব্য করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমান বা তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। এজন্যই এ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। এমনকি জন্মমাস নিয়েও ব্যাপক মতবিরোধ পাওয়া যায়। যেমন, একটি বর্ণনায় তাঁর জন্ম ৫৭১ সালের ৯ই রবিউল আওয়াল এপ্রিল ২৬। আপর এক বর্ণনার, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ২০ এপ্রিল ৫৭১ খ্রিস্টাব্দ। আরবি হিজরি সাল অনুযায়ীও তাঁর জন্ম তারিখ নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, রবিউল আউয়ালের ৮ তারিখ জন্মগ্রহণ করেন। অধিকাংশ হাদিসবিশারদ একে বিশুদ্ধ বলেছেন। 

মহানবী (সা.)-এর জীবনী লেখকদের মধ্যে ইবনে ইসহাক প্রথম সারির জীবনীকার। তিনি বলেন, মহানবী (সা.) হাতিবাহিনীর ঘটনার বছর ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেছেন। (সিরাতে ইবনে হিশাম, খণ্ড-১, পৃ. ১৫৮)

আধুনিক যুগে সিরাতবিষয়ক গ্রন্থ ‘আর রহিকুল মাকতুম’-এ এসেছে, ‘সায়্যিদুল মুরসালিন মক্কায় বনি হাশিমের ঘাঁটিতে সোমবার সকালে ৯ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন, যে বছর হাতির ঘটনা ঘটে। সে বছর পারস্য দেশের বাদশাহ আনু শিরোয়ার ক্ষমতা গ্রহণের ৪০ বছর পূর্ণ হয়। (আর রহিকুল মাকতুম, খণ্ড-১, পৃ. ৪৫)

তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন প্রণেতা মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) লিখেছেন, এ বিষয়ে সবাই একমত যে নবী করিম (সা.)-এর জন্ম রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার দিন হয়েছিল। কিন্তু তারিখ নির্ধারণে চারটি বর্ণনা প্রসিদ্ধ আছে—

২, ৮, ১০ ও ১২ রবিউল আউয়াল। এর মধ্যে হাফিজ মুগলতাই (রহ.) ২ তারিখের বর্ণনাকে গ্রহণ করে অন্য বর্ণনাগুলোকে দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু প্রসিদ্ধ বর্ণনা হচ্ছে ১২ তারিখ। ‘তারিখে ইবনে আছির’ গ্রন্থে এ তারিখই গ্রহণ করা হয়েছে।

গবেষক মাহমুদ পাশা জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলোকে ৯ তারিখ গ্রহণ করেছেন। এটি সবার মতের বিপরীত ও সূত্রবিহীন উক্তি। যেহেতু চাঁদ উদয়ের স্থান বিভিন্ন, তাই গণনার ওপর এতটুকু বিশ্বাস ও নির্ভরতা জন্মায় না যে তার ওপর ভিত্তি করে সবার বিরোধিতা করা যাবে। (সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া, ইসলামিয়া কুতুবখানা)

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম তারিখ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও দিন হিসেবে সোমবার সম্পর্কে কোনো মতভেদ নেই। কারণ জীবনচরিত রচয়িতারা একমত যে রবিউল আউয়াল মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে সোমবার দিন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম। এই সোমবার ৮ অথবা ৯ কিংবা ১২—এটুকুতেই হিসাবের পার্থক্য রয়েছে মাত্র। (ইসলামী বিশ্বকোষ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)

★★রাসুল (সা:) এর বংশ:

হয়রত মুহাম্মাদ (সা:) বর্তমান সৌদি আরবে অবস্থিত মক্কা নগরীর কুরাইশ বংশের বানু হাশিম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন।

★★রাসুল (সা:)এর নাম:

নবীজি (সা.) এর জন্মের পরে দাদা আব্দুল মুত্তালিব নাম রেখেছিলেন ‘মুহাম্মাদ’। কুরআনে নবী ঈসা (আ.)-এর ভাষায় বলা হয়েছে ‘আহমাদ’। নবুয়তের পূর্বে তাকে ডাকা হতো ‘আল-আমিন’ বলে।

 হজরত যুবায়ের ইবনে মুতইম (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, আমার পাঁচটি নাম রয়েছে, আমি ‘মুহম্মাদ’ ও ‘আহমাদ’ এবং আমি ‘মাহী’, যার আমার মাধ্যমে আল্লাহ কুফর মুছে দেন; এবং আমি ‘হাশির’, যেহেতু মানুষ পরকালে আমার ওপর নির্ভর করে সমবেত হবে; এবং আমি ‘আকিব’। [বুখারী, হাদিস ৩৫৩২]

হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের সামনে নিজের নাম এভাবে বলতেন, আমি মুহাম্মদ, আহমদ, মুকাফ্ফি, হাশির, নাবিউত তাউবা (তওবার নবী), নাবিউর রহমাহ (রহমতের নবী)।

ইবনে দিহয়া তার রচনায় ‘মুফরাদুন ফি আসমাইন নাবাবিইয়া’ শিরোনামে লিখেছেন, অনেকের অভিমত, রাসুল (সা.)-এর নামের সংখ্যা আল্লাহর নামের মতো নিরানব্বইটি। তবে কেউ যদি গুণ ধরে ধরে তার নাম খোঁজে, তাহলে তা তিনশ’ হয়ে যাবে। [ফাতহুল বারী, খ- ৬, পৃষ্ঠা ৫৫৮]

আল্লামা কাসতালানি (রহ.) বলেন, আবু বকর ইবনে আরাবি রচিত ‘আহকামুল কুরআন’ গ্রন্থে আমি দেখেছি, কয়েকজন সুফি বলেছেন, আল্লাহর এক হাজার নাম রয়েছে এবং নবীজিরও রয়েছে একহাজার নাম। 

★★★রাসুল (সা:) এর নসবনামা-

হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ),তাঁহার পিতা আব্দুল্লাহ, তাঁহার পিতা আব্দুল মোত্তালিব, তাঁহার পিতা হাসিম, তাঁহার পিতা আব্দ মানাফ, তাঁহার পিতা কুছাই, তাঁহার পিতা কিলাব, তাঁহার পিতা মুরাহ, তাঁহার পিতা কা'বতাঁহার পিতা লুই, তাঁহার পিতা গালিব, তাঁহার পিতা ফাহর, তাঁহার পিতা মালিক, তাঁহার পিতা আননাদর, তাঁহার পিতা কিনান, তাঁহার পিতা খুজাইমা, তাঁহার পিতা মুদরাইকা, তাঁহার পিতা ইলাস, তাঁহার পিতা মুদার, তাঁহার পিতা নিজার, তাঁহার পিতা মা'দ, তাঁহার পিতা আদনান, তাঁহার পিতা আওয়াদ, তাঁহার পিতা হুমাইসা, তাঁহার পিতা সালামান, তাঁহার পিতা আওয, তাঁহার পিতা বুয, তাঁহার পিতা কামওয়াল, তাঁহার পিতা ওবাই, তাঁহার পিতা আওয়ান, তাঁহার পিতা নাসিদ, তাঁহার পিতা হিযা, তাঁহার পিতা বালদাস, তাঁহার পিতা ইয়াদলাফ, তাঁহার পিতা তাবিখ, তাঁহার পিতা জাহিম, তাঁহার পিতা নাহিস, তাঁহার পিতা মাখি, তাঁহার পিতা আ"য়েফ, তাঁহার পিতা আবকার, তাঁহার পিতা উবাইদ, তাঁহার পিতা আদ দাহা, তাঁহার পিতা হামদান, তাঁহার পিতা সানবার, তাঁহার পিতা ইয়াসরিবি, তাঁহার পিতা ইয়াহজিন, তাঁহার পিতা ইয়ালহান, তাঁহার পিতা ইরাওয়া, তাঁহার পিতা আইযি, তাঁহার পিতা যিশান, তাঁহার পিতা আইছার, তাঁহার পিতা আফনাদ, তাঁহার পিতা আইহাম, তাঁহার পিতা মুকাসির, তাঁহার পিতা নাহিস, তাঁহার পিতা যারিহ, তাঁহার পিতা সামি, তাঁহার পিতা মায্যি, তাঁহার পিতা ইওয়াদ, তাঁহার পিতা ইরাম, তাঁহার পিতা হিদার, তাঁহার পিতা হযরত ইসমাইল (আঃ), তাঁহার পিতা হযরত ইবরাহিম (আঃ), তাঁহার পিতা তারক, তাঁহার পিতা নাহুর, তাঁহার পিতা সারুয, তাঁহার পিতা রা'উ, তাঁহার পিতা ফাহিয, তাঁহার পিতা আবীর, তাঁহার পিতা আফরাহশাদ, তাঁহার পিতা সা'ম, তাঁহার পিতা হযরত নূহ (আঃ), তাঁহার পিতা লামিক, তাঁহার পিতা মাতু সালিখ, তাঁহার পিতা হযরত ঈদ্রীস (আঃ), তাঁহার পিতা ইয়ারিদ, তাঁহার পিতা মালহালিল, তাঁহার পিতা কিনান, তাঁহার পিতা আনস, তাঁহার পিতা হযরত শীস (আঃ), তাঁহার পিতা হযরত আদম (আঃ)।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শাওয়াল মাসের ফযিলত

মাসবুকের নামাযের নিয়ম কি?