পোস্টগুলি

নভেম্বর, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

জামাআতের সময় ইমাম ও মুসল্লীগণ কখন দাঁড়াবেন?

 প্রশ্ন: জামাআতের সময় ইমাম ও মুসল্লীগণ কখন দাঁড়াবেন? উত্তরঃ- ★রাসূলে করীম [ﷺ] ইরশাদ করেন- عن أبى قتادة قال قال رسول الله [ﷺ] إزا أقيمت الصلاة فلا تقوموا حتى ترونى- "নামাযের ইকামত দেওয়া শুরু হলে তোমরা আমাকে (হুজরা শরীফ থেকে বের হতে) দেখার পূর্বে দাঁড়াবে না।" ( আবূ দাউদ তিরমিযী,নাসাঈ) প্রকাশ থাকে যে, প্রিয় নবীজী [ﷺ]'র হুজরা মোবারক মসজিদে নববী'র মেহরাবের অতি নিকটবর্তী ছিল। অতি সামান্য ব্যবধানেই তিনি মেহরাবে তাশরীফ নিতেন। ★এখন কথা হলো, রাসূলাল্লাহ [ﷺ] হুজরা শরীফ থেকে ইকামতের কোন মুহূর্তে মেহরাবে আসতেন। এ ব্যাপারে মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) "মিরকাতুল মাফাতীহ" গ্রন্থে লিখেনঃ لعله عليه الصلاة والسلام كان يخرج منا الحجرة بعد شروع المؤزن في الاقامة ويدخل في محرب المسجد عند قوله حي على الصلاة . "আর সম্ভবত নবী করিম [ﷺ] হুজরা শরীফ থেকে বের হতেন মুয়াজ্জিন ইকামত শুরু করার পর এবং 'হাইয়্যা আলাছ ছালাহ' বলার সময় তিঁনি মেহরাবে প্রবেশ করতেন।"  ★ ইকামতের পূর্বে না পরে কাতার সোজা করতে হবে এব্যাপারে রাসুল সাঃ বলেন-  عن انس بن مالك رضى الله عنه قال: اقيمت الصلاة فاقب...

মসজিদে কি দুনিয়াবী কথা বলা যাবে?

 প্রশ্নঃ মসজিদে কি দুনিয়াবী কথা বলা যাবে? উত্তর:- بسم الله الرحمن الرحيم মসজিদ হল, নামায, জিকির, তিলাওয়াত তথা ইবাদতের স্থান। দুনিয়াবী আলাপ আলোচনার স্থান নয়। তাই দুনিয়াবী কথাবার্তার জন্য মসজিদে গমণ বৈধ নয়। কিন্তু যদি মসজিদে ইবাদতের জন্য প্রবেশ করে, তারপর প্রয়োজনীয় দুনিয়াবী কথা বলে, তাহলে সেটি যদি কারো ইবাদতের বিঘ্ন না ঘটায় এবং অশ্লীল না হয়, তাহলে জায়েজ আছে। الْكَلَامُ الْمُبَاحُ مِنْ حَدِيثِ الدُّنْيَا يَجُوزُ فِي الْمَسَاجِدِ وَإِنْ كَانَ الْأَوْلَى أَنْ يَشْتَغِلَ بِذَكَرِ اللَّهِ تَعَالَى-(رد المحتار) হযরত আনাস রা.থেকে বর্ণিত, এক হাদীসে রাসূল (সা:) ইরশাদ করেছেন- إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لَا تَصْلُحُ لِشَيْءٍ مِنْ هَذَا الْبَوْلِ، وَلَا الْقَذَرِ إِنَّمَا هِيَ لِذِكْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَالصَّلَاةِ وَقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ অর্থাৎ "মসজিদ প্রসাব,নাপাকী ও আবর্জনার উপযুক্ত নয়। বরং মসজিদ হল আল্লাহ তাআলার যিকির ও কুরআন তেলাওয়াতের জন্য।" {মুসলিম শরীফ হাদীস নং-২৮৫} والله اعلم بالصواب লিখক মুহাম্মদ আল-আমিন

ইমাম মুসল্লি থেকে উঁচু স্থানে দাঁড়ালে নামায হবে কি?

প্রশ্নঃ ইমাম মুসল্লি থেকে উঁচু স্থানে দাঁড়ালে নামায হবে কি? উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم ইমাম সাহেব মুক্তাদীগণ থেকে এক হাত উঁচুতে দাড়াতে পারেন। এর চেয়ে বেশি উঁচুতে দাঁড়ালে উক্ত নামায মাকরূহে তাহরীমী হবে। সুতরাং এক হাতের চেয়ে উঁচু স্টেজে ইমাম আর মুক্তাদী সব নিচে দাড়িয়ে নামায পড়লে তা মাকরূহ হবে। তবে এক্ষেত্রে যদি উপরে ইমামের সাথে কিছু মুসল্লি থাকে, তাহলে নামায মাকরূহ ছাড়াই শুদ্ধ হবে। عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيِّ، حَدَّثَنِي رَجُلٌ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ بِالْمَدَائِنِ فَأُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَتَقَدَّمَ عَمَّارٌ وَقَامَ عَلَى دُكَّانٍ يُصَلِّي وَالنَّاسُ أَسْفَلَ مِنْهُ، فَتَقَدَّمَ حُذَيْفَةُ فَأَخَذَ عَلَى يَدَيْهِ فَاتَّبَعَهُ عَمَّارٌ، حَتَّى أَنْزَلَهُ حُذَيْفَةُ فَلَمَّا فَرَغَ عَمَّارٌ مِنْ صَلَاتِهِ قَالَ لَهُ حُذَيْفَةُ: أَلَمْ تَسْمَعْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا أَمَّ الرَّجُلُ الْقَوْمَ فَلَا يَقُمْ فِي مَكَانٍ أَرْفَعَ مِنْ مَقَامِهِمْ» أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ؟، قَالَ عَمَّارٌ: «لِذَلِكَ اتَّبَعْتُكَ حِينَ أَخَذْ...

মেহরাবের ভিতর দাঁড়ানোর হুকুম কি?

 প্রশ্ন: নামায পড়ার সময় ইমাম পুরোপুরি মেহরাবের ভিতর দাঁড়ানোর হুকুম কি? উত্তর:- বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম জামাতে নামায পড়ার সময় ইমাম পুরোপুরি মেহরাবের ভিতর দাঁড়ানো মাকরূহ। তবে যদি পায়ের গোড়ালীর কিছু অংশ মেহরাবের বাহিরে তথা মসজিদে থাকে তাহলে মাকরূহ হবে না। একাকী নামায পড়ার সময় মেহরাবের ভিতর পড়তে কোন সমস্যা নেই। এছাড়া যদি মুসল্লীদের ভীরের কারণে স্থান সংকুলান না হয়, তাহলেও ইমাম পুরোপুরি মেহরাবের ভিতর দাঁড়ালেও মাকরূহ হবে না। ويكره قيام الإمام وحده فى الطاق وهو المحراب، ولا يكره سجوده فيه إذا كان قائما خارج المحراب (الفتاوى الهندية) لا يكره قيام الإمام فى الطاق عند الضرورة بأن ضاق المسجد على القوم (رد المحتار) والله اعلم بالصواب মুফতি মুহাম্মদ আল-আমিন প্রভাষক ( আরবি) হযরত শাহজালাল ফাযিল মাদরাসা, সিলেট।