তাওবার গুরুত্ব (২য় পর্ব)

 


তাওবার গুরুত্ব

১."আনাস রা: বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা:কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আদম সন্তান! যাবৎ তুমি আমাকে ডাকবে এবং ক্ষমার আশা রাখবে, তাবৎ আমি তোমাকে ক্ষমা করব। তোমার অবস্থা যাই হোক না কেন, আমি কোন পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে থাকে অতঃপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, আমি কোন পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে উপস্থিত হও এবং আমার সাথে কাউকে শরিক না করে থাক, তাহলে আমি পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার নিকট উপস্থিত হব।’’ [তিরমিযি ৩৫৪০]

الَلَّهُ أشَدُّ فَرَحًا بتَوْبَةِ أحَدِكُمْ، مِن أحَدِكُمْ بضالَّتِهِ، إذا وجَدَها-

২.“তোমাদের কেউ হারানো বস্তু পেয়ে যেমন খুশি হয়, আল্লাহ তোমাদের তাওবায় তার চেয়েও বেশি খুশি হোন ।” [মুসলিমঃ ২৬৭৫]

৩."হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা: হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট তাওবা করতে থাক। কেননা আমি নিজে দৈনিক ১০০ বার তাওবা করি। হজরত আবু আইউব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট একথা শ্রবণ করেছি, যা তোমাদের নিকট থেকে গোপন রেখেছিলাম তা এই, তিনি বলেছেন, যদি তোমরা গোনাহ করে আল্লাহ তাআলার মহান দরবারে তাওবা-ইস্তিগফার না করতে, তবে আল্লাহ তাআলা এমন এক মাখলুক সৃষ্টি করতেন, যারা গোনাহ করে আল্লাহ তাআলার দরবারে তাওবা করতো, তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ক্ষমা করতেন।" (মুসলিম)

وَاللهِ إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأتُوبُ إِلَيْهِ فِي اليَومِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً». رواه البخاري

৪."আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসটিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি বলেন- “আল্লাহর শপথ, আমি প্রতিদিন সত্তরবারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও তাওবা করে থাকি”। [বুখারি ৬৩০৭]

عن ابن عباس رضى الله عنهما قال قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم التَّائبُ مَنَ الذنب كمن لاذنب له-

৫."হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, তাওবাকারী ঐ ব্যক্তির ন্যায় যার কোন গুনাহ নেই।" [সুনানে বায়হাকী শরীফ: হাদীস- ২০৩৫০] 

أَبُو مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ بُرَيْدَةَ قَالَ حَدَّثَنِي بُشَيْرُ بْنُ كَعْبٍ الْعَدَوِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي شَدَّادُ بْنُ أَوْسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سَيِّدُ الِاسْتِغْفَارِ أَنْ تَقُولَ اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّه“ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ قَالَ وَمَنْ قَالَهَا مِنْ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا فَمَاتَ مِنْ يَوْمِه„ قَبْلَ أَنْ يُمْسِيَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَمَنْ قَالَهَا مِنْ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ.

৬."শাদ্দাদ ইবনু আউস (রাঃ) থেকে বর্ণিত,নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার হলো বান্দার এ দু’আ পড়া- “হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নি’য়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা কর।” যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ ইসতিগফার পড়বে আর সন্ধ্যা হবার আগেই সে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ দু’আ পড়ে নেবে আর সে ভোর হবার আগেই মারা যাবে সে জান্নাতী হবে।"(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৪)

عَنِ الأَغَرِّ الْمُزَنِيِّ، - وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِنَّهُ لَيُغَانُ عَلَى قَلْبِي وَإِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ ‏"‏ ‏.‏

৭."রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবী আগার আল মুযানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমার অন্তরে কখনো কখনো অলসতা দেখা দেয়, তাই আমি দৈনিক একশ’ বার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকি।" (ই.ফা. ৬৬১২, ই.সে. ৬৬৬৬)

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنُونَ ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ خَلَقَ اللَّهُ مِائَةَ رَحْمَةٍ فَوَضَعَ وَاحِدَةً بَيْنَ خَلْقِهِ وَخَبَأَ عِنْدَهُ مِائَةً إِلاَّ وَاحِدَةً ‏"‏ 

৮."আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা একশ’ ভাগ রহ্‌মাত সৃষ্টি করে একভাগ সৃষ্টির মধ্যে রেখে দিয়েছেন এবং নিরানব্বই ভাগ নিজের নিকট লুকায়িত রেখেছেন।" (ই.ফা. ৬৭২০, ই.সে. ৬৭৭৬)

وَعَنِ ابنِ مَسعُود رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَالَ: أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لاَ إِلٰهَ إِلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُومُ وَأتُوبُ إِلَيهِ، غُفِرَتْ ذُنُوبُهُ، وَإِنْ كانَ قَدْ فَرَّ مِنَ الزَّحْفِ» . رواه أبو داود والترمذي والحاكم، وقال :[ حديث صحيح على شرط البخاري ومسلم ]

৯."ইবনে মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি এ দো‘আ পড়বে, ‘আস্তাগ্‌ফিরুল্লা-হাল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যূমু অ আতূবু ইলাইহ্।' অর্থাৎ, আমি সেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি যিনি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব, অবিনশ্বর। এবং আমি তাঁর কাছে তওবা করছি।"

তাওবার কয়েকটি উপমা:
১.আল্লামা বগভি (রহ.) লিখেছেন, হজরত নুহ (আ.) এর জাতি যখন বহুদিন ধরে তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে থাকে, আল্লাহ তায়ালার নাফরমানি থেকে বিরত থাকতে অস্বীকৃত জানায়, তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেন। ৪০ বছর ধরে তাদের সন্তান-সন্ততি জন্মগ্রহণ বন্ধ রইল, তাদের অর্থ-সম্পদ বিনষ্ট হয়ে গেল, এমনকি চতুষ্পদ জন্তুগুলোও শেষ হয়ে গেল। তখন তাদের হজরত নুহ (আ.) উপদেশ দিয়েছিলেন, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হও। 
সুরা নুহ এর ১০ নং আয়াত থেকে ১২ নং আয়াত 
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا - يُرْسِلِ السَّمَاء عَلَيْكُم مِّدْرَارًا - وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا -
 অতঃপর বলেছি,তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।
সুরা নুহের এ ৩ টি আয়াতের দ্বারা এসতেগফারের ৬টি উপকারিতা আল্লাহ তায়ালা বয়ান করে দিয়েছেন।  
২.একবার হজরত ওমর (রা.) বৃষ্টিপাতের জন্য ইসতিসকার নামাজের উদ্দেশে বের হলেন। ময়দানে এসে তিনি শুধু তওবা-এস্তেগফার করলেন, ইসতিসকার নামাজ আদায় করলেন না। লোকেরা প্রশ্ন করল, আপনি ইসতিসকার নামাজ আদায় করলেন না, শুধু এস্তেগফার করলেন কেন? তিনি বললেন, আল্লাহ তায়ালা এস্তেগফার করার আদেশ দিয়েছেন এবং এর বরকতে বারিবর্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আমি তাই করেছি, যা আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন। (তাফসিরে কবির)। 
 ৩.হাসান বসরি (র.)-এর নিকট এক ব্যক্তি বৃষ্টিহীনতার অভিযোগ করলে তিনি তাকে বললেন, আল্লাহর কাছে তওবা কর। অপর এক ব্যক্তি দরিদ্রতার অভিযোগ করলে তাকেও বললেন, আল্লাহর কাছে তওবা কর। তৃতীয় একজন এসে অভিযোগ করল তার বাগান শুকিয়ে যাচ্ছে। তাকেও একই কথা বললেন, আল্লাহর কাছে তওবা কর। এ সময় তারা বলল, প্রত্যেক ব্যক্তি পৃথক পৃথক অভিযোগ করল আর আপনি সবাইকে ইস্তেগফার করতে বললেন তার হেতু কি? উত্তরে তিনি বললেন, আমি নিজের পক্ষ থেকে কিছু বলিনি। আল্লাহ সূরা নূহের ১০-১২ আয়াতে বলেছেন। 'অতঃপর বলেছি, তোমরা আমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী-নালা প্রবাহ করবেন।'
৪.হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেছিল, এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে, যে গোনাহ করে তাওবা করে; পুনরায় গোনাহ করে। আবার তাওবা করে আবার গোনাহ করে। আবার গোনাহের কাজে মশগুল হয় এবং আবার তাওবা-ইস্তিগফার করে। এ রূপ করতে থাকা ব্যক্তির কি অবস্থা হবে? হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, তার কর্তব্য হলো সর্বদা তাওবা-ইস্তিগফার করতে থাকা। কেননা তাওবা-ইস্তিগফার অব্যাহত থাকলে শয়তান ব্যর্থ হয়ে যাবে। শয়তান বলবে, এ ব্যক্তিকে গোনাহর কাজে সর্বদা মশগুল রাখতে আমি অক্ষম।
৫.ইমাম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল (রহ.) শেষ বয়সে হাদিস সংগ্রহের জন্য একবার সফরে বের হয়েছেন। এক মসজিদে নামাজ পড়ে ভাবলেন, রাত এখানে কাটিয়ে দেবেন। কিন্তু মসজিদে থাকার অনুমতি পেলেন না। পাশেই বাজার, এক রুটির দোকানদারের কাছে বসে রাত কাটালেন। রুটির দোকানদার ছিলেন একজন যুবক। তিনি রুটির খামির বানানো, রুটি বেলা এবং উনুনে সেঁকা ও উনুন থেকে রুটি নামানোর পুরো সময়টিতে আসতাগফিরুল্লাহ বলছিলেন। ইমাম হাম্বল (রহ.) বললেন, ‘যুবক তুমি বিড়বিড় করে কী বলো?’ যুবকটি বলল, ‘আসতাগফিরুল্লাহ আমার পছন্দের আমল। এর বদৌলতে আল্লাহর কাছে যা–ই দোয়া করি, তা কবুল হয়। একটা দোয়া এখনো কবুল হয়নি। শুনেছি এ জমানার শ্রেষ্ঠ হাদিস সংগ্রাহক হলেন ইমাম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল। যদি আমি তাঁর দেখা পেতাম।’ ইমাম হাম্বল (রহ.) বললেন, ‘আল্লাহ তোমার এই দোয়াও কবুল করেছেন, আমিই আহমদ হাম্বল।’
৬.রাসুল সা: অন্যত্র বলেন, হযরত ইব্রাহিম আ: আকাশে উন্নিত হইলেন।  তথা হইতে তিনি দেখিতে পাইলেন যে, দুনিয়াতে জনৈক পুরুষ এক নারীর সহিত জিনাহ ( ব্যাভিচার ) করিতেছে ।  তিনি তাহাদের জন্য বদ দুয়া করলেন। ইহাতে তাহারা মরিয়া গেলো । তৎপর ওপর এক ব্যাক্তিকে  গুনাহে লিপ্ত দেখিতে পাইয়া তাহার জন্য বদ দুয়া করলেন । এমন সময়, আল্লাহ্‌ তায়ালা ওহী অবতীর্ণ করলেন, ' হে ইব্রাহিম আমার বান্দা কে ক্ষমার চোখে অবলোকন করো ।  হয়ত তাহারা তওবা করিবে এবং আমি কবুল করিব। অথবা ক্ষমা চাইবে আমি মাফ করিয়া দিবো। কিংবা তাহাদের বংশে এমন সন্তান সন্ততি জন্ম গ্রহন করিবে , যাহারা আমার ইবাদত করিবে । - এই তিনটির কোন একটি তো হইবেই । তুমি কি জানো না যে আমার নাম সবুর ( ধৈর্য শীল) ?
৭.এক হাবশি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অয়া সাল্লামের দরবারে উপস্থিত হইয়া নিবেদন করলো-
" হে আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) আমি অনেক গুনাহ করিয়াছি । আমার তওবাও কি কবুল হইবে? "রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলিলেন , " হ্যাঁ। কবুল হইবে । "ইহা শুনিয়া হাবশি প্রস্থান করিল।  কিন্তু কিছুদূর গমনের পর ফিরিয়া আসিয়া পুনরায় নিবেদন করিল,"হে আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) গুনাহ করিবার সময় আল্লাহ্‌ পাক কি দেখিতেছিলেন? নবীজী (সঃ) বলিলেন, " হ্যাঁ। আল্লাহ্‌ পাক দেখিতেছিলেন । ইহা শুনিয়া হাবশি একটি চিৎকার করে ভু তলে ( মাটিতে ) পড়ে গেলো । এবং তৎক্ষণাৎ প্রান ত্যাগ করলো  ( মারা গেলো) । রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি অয়া সাল্লাম বলেন, " মন্দ কার্য ঘটিয়া গেলে অবিলম্বে সৎকর্ম করো ।  তাহলে সৎকর্ম মন্দ কর্ম টিকে মিটাইয়া দেবে ।" তিনি আরও বলেন, " গুনাহর স্তূপ আকাশ পর্যন্ত গিয়া পৌছালেও তওবা করো । কারণ তবুও তওবা কবুল হয়ে থাকে । তিনি  অন্যত্র বলেন, এমন লোকও হইবে যে , পাপের কারণে বেহেশতে যাইবে । সাহাবা (রাঃ) গণ জিজ্ঞেস করিলেন যে , ইয়া রাসুলুল্লাহ (সঃ) ইহা কিরুপে হইবে? তিনি বলিলেন, " কেহ পাপ করিয়া এতো অধিক অনুতপ্ত হয় যে,  বেহেশতে প্রবেশ করা পর্যন্ত  এই অনুতাপের প্রতি তার লক্ষ্য থাকে।  তওবা কারী লোকদের সম্বন্ধে শয়তান বলে , " হায় ! আমি যদি তাহাদিগকে পাপে লিপ্ত না করিতাম।
--- তওবা অধ্যায় , কীমিয়ায়ে সা'আদাত , ৪র্থ খণ্ড
৮.নবী হযরত মূসা(আঃ)-এর যমানায় দূর্ভিক্ষ দেখা দিল । বৃষ্টি হচ্ছিল না।কওমের লোকেরা মূসা আঃ এর নিকট এসে বৃষ্টির জন্য দোয়া করার আবেদন জানালো ।হযরত মূসা (আ) ৭০ হাজার লোক নিয়ে এক জামআতে নামায আদায় করলেন কিন্তু তীব্র রোদ ওঠলো । হযরত মূসা আঃ বললেন হে আল্লাহ নামায আদায় করলাম দোয়া করলাম কিন্তু প্রচন্ড রোদ ওঠেছে। আল্লাহ বললেন "তোমাদের মধ্যে এমন একজন আছে যে গত ৪০ বছর কোন ভালো কাজ করেনি শুধু নাফরমানি করেছে । সেই অত্যাচারী জালেম যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের সঙ্গে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি বৃষ্টি বর্ষন করবো না"। হযরত মূসা আঃ বললেন, যদি এরকম পাপী কেউ থাকো,যে ব্যক্তি ৪০ বছরে কোন ভালো কাজ করোনি , শুধু আল্লাহর নাফরমানী করেছো তবে সে বের হয়ে যাও । তার পাপের কারণে অন্য সকল মানুষ কষ্ট পাচ্ছে,বৃষ্টি হচ্ছে না। সেই পাপী লোকটি ডানে বামে সামনে পিছনে তাকালো । কিন্তু চিন্তা করলো যদি আমি এখন সকলের চোখের সামনে দিয়ে বের হয়ে যাই তবে অপমানের শেষ থাকবে না।যদি এখানে দাড়িয়ে থাকি তবে বৃষ্টি হবে না।এখন আমি কি করবো?সেই ব্যক্তি লজ্জিত ভাবে বলল, হে আল্লাহ আমি ৪০ বছর যাবত তোমার নাফরমানী করেছি।কিন্তু আমাকে সুযোগ দিয়েছো ।আমি এখন তোমার নিকট তওবা করছি।তুমি আমার তওবা কবুল কর।একথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেলো এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হলো। আল্লাহ বললেন যার কারণে বৃষ্টি হচ্ছিল না সে তওবা করেছে আমি তওবা কবুল করেছি।
হযরত মূসা আঃ জানতে চাইলেন সেই ব্যক্তি কে?আল্লাহ বললেন ,সে যখন ৪০ বছর যাবত পাপ করেছে তখনো আমি কাউকে তার পরিচয় প্রকাশ করিনি এখন তওবা করে পরিচ্ছন্ন হয়েছে এখনো তার পরিচয় প্রকাশ করবো না। মানুষকে আমি গীবত করতে নিষেধ করেছি,আমি কিভাবে বান্দার নামে গীবত করবো।

৯.আবূ সা‘ঈদ আল (সা‘দ ইবনু মালিক ইবনু সিনান) খুদরী থেকে বর্ণিত যে, নাবী (সা.) বলেছেন : ‘‘তোমাদের পূর্বে (বানী ইসরাইলের যুগে) একটি লোক ছিল যে ৯৯ জন মানুষকে হত্যা করেছিল। অতঃপর লোকেদেরকে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় জ্ঞানী সম্পর্কে জানতে চাইলো। তাকে একজন খ্রিষ্টান সন্ন্যাসীর কথা বলা হল। সে তার কাছে এসে বলল, ‘সে ৯৯ জন মানুষকে হত্যা করেছে। এখন কি তার তাওবার কোন সুযোগ আছে?’ সে বলল, ‘না’। সুতরাং সে (রাগান্বিত হয়ে) তাকেও হত্যা করে একশত পূরণ করল। পুনরায় সে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় জ্ঞানী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। এবারও তাকে এক জ্ঞানীর খোঁজ দেয়া হল। সে তার নিকট এসে বলল যে, ‘সে একশত মানুষ খুন করেছে। সুতরাং তার কি তাওবার কোন সুযোগ আছে?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ আছে! তার ও তাওবার মধ্যে কে বাধা সৃষ্টি করবে? তুমি অমুক স্থানে চলে যাও। সেখানে কিছু এমন লোক আছে যারা আল্লাহ তা‘আলার ‘ইবাদাত করে। তুমিও তাদের সাথে আল্লাহর ‘ইবাদাত কর। আর তোমার নিজ আবাসস্থলে ফিরে যেও না। কেননা, ও স্থান পাপের স্থান।’ অতঃপর ঐ ব্যক্তি ঐ স্থানের দিকে যেতে আরম্ভ করল। যখন সে মধ্য রাস্তায় পৌঁছল, তখন তার মৃত্যু এসে গেল। (তার দেহ থেকে আত্মা বের করার জন্য) রহমত ও আযাবের উভয় প্রকার ফেরেশতা উপস্থিত হলেন। ফেরেশতাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক আরম্ভ হল। রহমতের ফেরেশতাগণ বললেন, ‘এই ব্যক্তি তাওবাহ্ করতে এসেছিল এবং পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর দিকে তার আগমন ঘটেছে।’ আর আযাবের ফেরেশতাগণ বললেন, ‘এ লোক এখনো ভালো কাজ করেনি (এই জন্য সে শাস্তির উপযুক্ত)।’ এমতাবস্থায় একজন ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে উপস্থিত হলেন। ফেরেশতাগণ তাঁকে সালিস মানলেন। তিনি ফায়সালা দিলেন যে, ‘তোমরা দুই স্থানের দূরত্ব মেপে দেখ। (অর্থাৎ এ লোক যে স্থান থেকে এসেছে সেখান থেকে এই স্থানের দূরত্ব এবং যে দেশে যাচ্ছিল তার দূরত্ব) এই দুই স্থানের মধ্যে সে যার দিকে বেশী নিকটবর্তী হবে, সে তারই অন্তর্ভুক্ত হবে।’ অতএব তাঁরা দূরত্ব মাপলেন এবং যে স্থানে সে যাওয়ার ইচ্ছা করেছিল, সেই (ভালো) স্থানকে বেশী নিকটবর্তী পেলেন। সুতরাং রহমতের ফেরেশতাগণ তার জান কবয করলেন।’’
   অন্য একটি বর্ণনায় এরূপ আছে যে, ‘‘পরিমাপে ঐ ব্যক্তিকে সৎকর্মশীল লোকেদের স্থানের দিকে এক বিঘত বেশী নিকটবর্তী পাওয়া গেল। সুতরাং তাকে ঐ সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের স্থানের অধিবাসী বলে গণ্য করা হল।’’
     অন্য আরেকটি বর্ণনায় এইরূপ এসেছে যে, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা ঐ স্থানকে (যেখান থেকে সে আসছিল তাকে) আদেশ করলেন যে, তুমি দূরে সরে যাও এবং এই সৎকর্মশীলদের স্থানকে আদেশ করলেন যে, তুমি নিকটবর্তী হয়ে যাও। অতঃপর বললেন, ‘তোমরা এ দু’য়ের দূরত্ব মাপ।’ সুতরাং তাকে সৎকর্মশীলদের স্থানের দিকে এক বিঘত বেশী নিকটবর্তী পেলেন। যার ফলে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হল।’’
      আরও একটি বর্ণনায় আছে, ‘‘সে ব্যক্তি নিজের বুকের উপর ভর করে ভালো স্থানের দিকে একটু সরে গিয়েছিল।’’
১০.আবূ নুজাইদ ‘ইমরান ইবনুল হুসাইন আল খুযা‘ঈ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জুহায়নাহ্ গোত্রের এক নারী আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নিকট হাজির হল। সে যিনার কারণে গর্ভবতী ছিল। সে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি দন্ডনীয় অপরাধ করে ফেলেছি তাই আপনি আমাকে শাস্তি দিন!’ আল্লাহর নাবী (সা.) তার আত্মীয়কে ডেকে বললেন, ‘‘তুমি একে নিজের কাছে যত্ন সহকারে রাখ এবং সন্তান প্রসবের পর একে আমার নিকট নিয়ে এসো।’’ সুতরাং সে তাই করল (অর্থাৎ প্রসবের পর তাকে রাসূল (সা.)-এর কাছে নিয়ে এল)। নাবী (সা.) তার কাপড় তার (শরীরের) উপর মজবুত করে বেঁধে দেয়ার আদেশ দিলেন। অতঃপর তাকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলার আদেশ দিলেন। অতঃপর তিনি তার জানাযার সলাত আদায় করলেন। ‘উমার তাঁকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এই মহিলার জানাযার সলাত আদায় করলেন, অথচ সে ব্যভিচার করেছিল?’ তিনি বললেন, ‘‘(‘উমার! তুমি জান না যে,) এই মহিলাটি এমন বিশুদ্ধ তাওবাহ্ করেছে, যদি তা মদীনার ৭০ জন লোকের মধ্যে বণ্টন করা হত তাহলে তা তাদের সকলের জন্য যথেষ্ট হত। এর চেয়ে কি তুমি কোন উত্তম কাজ পেয়েছ যে, সে আল্লাহর জন্য নিজের প্রাণকে কুরবান করে দিল?’’

*তাওবা-ইস্তেগফার এর জন্য দু'আ:
      পবিত্র ক্বোরআনে ব্যবহৃত কিছু দো‘আ নিুরূপ-
رَبَّنَا ظَلَمْنَا اَنْفُسَنَا وَاِنْ لَمْ تَغْفِرْلَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مَنَ الْخَاسِرِيْنَ-
"হে আমাদের প্রভু, আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন তবে অবশ্যই আমরা ধ্বংস হয়ে যাব।" [সূরা আ’রাফ: আয়াত- ২৪] 
رَبَّنَا اِنَّنَا اَمَنَّا فَاغْفِرْلَنَا ذُونُوْبَنا وَقِِنَا عَذَابَ النَّارِ-
"হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিন আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।"[সূরা আলে ইমরান: আয়াত- ১৬] 
 رَبَّنَا فَاغْفِرْلَنَا ذُنُوْبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّأَتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْاَبْرَارِ-
"হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিন এবং দোষত্র“টিসমূহ দূর করে দিন। আর আমাদেরকে নেক্কার বান্দাদের সাথে মৃত্যু দিন।"
[সূরা আলে ইমরান: আয়াত- ১৯৩] 
اَنْتَ وَلِيُّنَا فَاغْفِرْلَنَا وَارْحَمْنَا وَاَنْتَ خَيْرُ الغَافِريْنَ-
আপনি আমাদের রক্ষক, সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের প্রতি করুনা করুন। আর আপনিতো সর্বাধিক ক্ষমাকারী। [সূরা আ‘রাফ: আয়াত- ১৫৫]
         হাদিসে বর্ণিত তাওবার কতিপয় দোয়া:
দোয়া-১:
أَستَغْفِرُ اللهَ
"আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"
প্রতি ওয়াক্তের ফরয সালাতে সালাম ফিরানোর পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দোয়া ৩ বার পড়তেন। [মিশকাত-৯৬১]
দোয়া-২:
أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
" আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তাঁর দিকে ফিরে আসছি।" রাসুলুল্লাহ (সাঃ) প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবা ও ইসতিগফার করতেন। [বুখারী-৬৩০৭]
দোয়া-৩:
رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ الغَفُوْرُ-
" হে আমার প্রভু, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়।"দ্বিতীয় বর্ণনায়: তাওবা কবুলকারী ও ক্ষমাকারী।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পড়েছেন। [আবূ দাঊদ-১৫১৬,]
দোয়া-৪:
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
" আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছে তাওবাহ্ করি।"
এই দোয়া পড়লে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন-যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র হতে পলায়নকারী হয়। [আবু দাউদ-১৫১৭, তিরমিযী-৩৫৭৭, মিশকাত-২৩৫৩]
দোয়া-৫:
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
"হে আল্লাহ তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।
এই দোয়া সকালে পড়ে রাতের আগে মারা গেলে অথবা রাতে পড়ে সকালের আগে মারা গেলে সে জান্নাতে যাবে।
[বুখারী-৬৩০৬]
*তাওবার নামায:
গুনাহ হয়ে গেলে তাওবার নিয়তে নামাজ পড়াকে তাওবার নামাজ বলে। গুনাহ সংঘটিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ নামাজ পড়া উচিত। বিগত জীবনের গুনাহ থেকে তাওবার নিয়তেও তা পড়া যায়। বিজ্ঞ আলেমদের মতে, তাওবার নামাজ পড়া মুস্তাহাব। কারণ বিভিন্ন হাদিসে তাওবার নামাজের ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সাহাবায়ে কেরাম তাওবার নামাজ পড়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। 
আসমা ইবনুল হাকাম (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি আলী (রা.)-কে বলতে শুনেছি,...তিনি বলেন, আবু বকর (রা.) আমাকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি সত্যই বলেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যখন কোনো বান্দা কোনো ধরনের গুনাহ করে উত্তমরূপে অজু করে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২১)
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার মতো এভাবে অজু করবে, অতঃপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে এবং এর মাঝখানে দুনিয়ার কোনো খেয়াল করবে না, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৫৯)। নামাজ শেষে আল্লাহর তাসবিহ পড়বে, আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং ইস্তেগফার পড়ে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করবে।
*তাওবার নামাজ পড়ার নিয়ম:
তাওবার নামাজের পদ্ধতি ওপরে উল্লিখিত আবু বকর (রা.)-এর হাদিসে স্পষ্ট বর্ণিত আছে। প্রথমে উত্তমরূপে অজু করতে হবে। তারপর একাগ্রচিত্তে নফল নামাজের মতো দুই রাকাত নামাজ পড়বে। তাওবার নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সুরা নেই। তাই যেকোনো সুরা দিয়েই তাওবার নামাজ পড়া যায়। এই নামাজের অজু ও নামাজের মাঝখানে কোনো দুনিয়াবি কাজ বা কথা না বলা উত্তম। কারণ 
আমাদের উচিত, কখনো কোনো গুনাহ সংঘটিত হয়ে গেলে যত দ্রুত সম্ভব মহান আল্লাহর কাছে তাওবা করা। এর একটি উত্তম পদ্ধতি হলো, উত্তমরূপে অজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ে তাওবা করা।
*তাওবা কবুলের উত্তম সময়:
১. প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ্ তা‘আলা নিজ বান্দাদেরকে তাদের কার কি মিনতি আছে তা পূরণের জন্য আহ্বান করতে থাকেন। যেমন হাদীসে বর্ণিত আছে-
عن ابى هريرة رضى الله عنه اَنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ينزل ربّنا تبارك وتعالى كل ليلة الى السماء الدنيا حتى يبقى ثلاث الليل الاخر فيقولُ من يدعونى فاستجيب له ومن يسألنى فأعطيهُ ومن يستغفرلى فاغفرله-
হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম সা এরশাদ করেন, প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ্ তা‘আলা পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে নাযিল হয়ে এই বলে ঘোষণা দেন যে, কে আছ আমার নিকট দো‘আ করবে? আমি তার দো‘আ কবুল করব। কে আছ আমার নিকট কিছু প্রার্থনা করবে? আমি তাকে দান করব। কে আছ আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। [সহীহ মুসলিম শরীফ: হাদীস- ১৮০৮]
২.হাদীসে বর্ণিত আছে যে-
عن ابن عمر رضى الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال ان الله تبارك وتعالى يقبل توبة العبد مالم يغرغر-
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা‘আলা ততক্ষণ বান্দাহর তাওবা কবুল করেন যতক্ষণ মৃত্যুর গরগর শব্দ না আসে। [সহীহ ইবনে হিব্বান
৩.হাদীসে বর্ণিত আছে-
عن ابى موسى الاشعرى رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الله يبسط يده بالليل يتوب مسئ النهار وبالنهار يتوب مَسِئ الليل حتى تطلع الشمسُ من مَغرِبِهَا-
হযরত আবু মুছা আশআরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সরওয়ারে কায়েনাত সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা‘আলা প্রতি রাতে স্বীয় ক্ষমার হাত প্রসারিত করেন দিনের গুনাহগারদের তাওবা কবুলের জন্য। এমননিভাবে দিনের বেলা স্বীয় ক্ষমার হাত প্রসারিত করেন রাতের গুনাহগারদের তাওবা কবুলের জন্য। পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদয়ের পূর্ব পর্যন্ত (রাতে ও দিনে) এটি অব্যাহত থাকবে। [মুসলিম শরীফ)
* তাওবা কবুলের সময়সীমা:
তিন মুহূর্ত আসার আগ পর্যন্ত মহান আল্লাহ তার বান্দার তাওবা কবুল করেন। কিন্তু এরপর আর তাওবা কবুল করা হয় না। নিম্নে সেই তিন মুহূর্ত তুলে ধরা হলো—
ক.   মৃত্যু আসার আগ পর্যন্ত। (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৮)
খ.   আজাব চলে আসার আগ পর্যন্ত । (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৮৫)
গ.   পশ্চিমাকাশে সূর্যোদয় হওয়ার আগ পর্যন্ত। (মুসলিম, হাদিস : ৬৭৫৪)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি অয়া সাল্লাম বলেন,   শয়তান অভিসপ্ত হইবার সময় বলিল, -" হে আল্লাহ্‌ তোমার গৌরবের  শপথ , মানুষের প্রান তার দেহ পিঞ্জর হইতে বাহির না হওয়া পর্যন্ত  আমি তাহার হৃদয় হইতে বাহির হবো না। " ' ইহার উত্তরে আল্লাহপাক বলিলেন,"  আমি আমার গৌরবের শপথ করিয়া বলিতেছি যে,  যে পর্যন্ত তার প্রান দিল হইতে বহির্গত  না হইবে, সেই পর্যন্ত আমিও তার জন্য তওবার দরজা উন্মুক্ত রাখিব। "
------হযরত ইমাম গাজ্জালি রহ্মাতুল্লাহ আলাইহি
আল্লাহ্ তা‘আলার নির্দেশ অনুযায়ী অতীত গুনাহের কথা স্মরণ করে ভবিষ্যতে গুনাহ না করার সংকল্প করার মাধ্যমে তাওবা করা সকলের একান্ত কর্তব্য। মহান আল্লাহ্ রাব্বুল ইজ্জত আমাদেরকে খাঁটি তাওবা করে তাঁর প্রিয়ভাজন হওয়ার তৌফিক দিন। আ-মী-ন।
*তাওবা-ইস্তিগফারের উপকারিতা হল:
১) এসতেগফার করা নবীদের সুন্নত।
২) এসতেগফার আল্লাহর কাছে প্রিয় একটি আমল।
৩) এসতেগফার দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য হাসিল হয়।
৪) এসতেগফার দ্বারা গুনাহসমুহ মাফ হয়।
৫) এসতেগফার দ্বারা ব্যবসায় লাভ হয়।
৬) এসতেগফার দ্বারা মযাদা বৃদ্ধি পায়।
৭) এসতেগফার দ্বারা আল্লাহর রহমত নাযিল হয়।
 সুরা নিসার ১১০ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন- 
 وَمَن يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللّهَ يَجِدِ اللّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا "
"যে গোনাহ, করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে  ক্ষমাশীল, করুণাময় পায়।" [ সুরা নিসা ৪:১১০ ]
৮) এসতেগফার দ্বারা সন্তান সন্ততি যাদের হয়না তাদের সন্তান হয়।
৯) এসতেগফার খড়া ও অনাবৃষ্টি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
১০) এসতেগফার দ্বারা বাগানে ফসল ভাল হয়।
১১) এসতেগফার দ্বারা কলবের ময়লা পরিস্কার হয়।
"হজরত আবু  হুরায়রা (রা.)  থেকে  বর্ণিত,  তিনি  বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, মোমিন ব্যক্তি যখন কোনো গোনাহ করে তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। তারপর  সে যদি ফিরে আসে,  গোনাহের ইচ্ছাকে মন থেকে বের করে দেয় এবং এস্তেগফার করে, তাহলে তার অন্তর পরিচ্ছন্ন করে দেয়াহয়।যদি আবার গোনাহ করে তাহলে এটি বাড়তে থাকে।অবশেষে গোনাহগুলোর কারণে তার অন্তর কালিমায় আচ্ছাদিত হয়ে যায়। বস্তুত এটিই  আলোচনা করে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে,كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِم مَّا كَانُوا يَكْسِبُونَকখনও না, বরং তারা যা করে, তাই তাদের হৃদয় মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে। [ সুরা মুতাফফিফীন ৮৩:১৪ ] ১২) এসতেগফার দ্বারা সকল সংকিনতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
১৩) এসতেগফার দ্বারা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
১৪) এসতেগফার দ্বারা আল্লাহ তায়ালা অকল্পনীয় স্থান থেকে রিযিকের ব্যবস্থা করে দেন।
 "হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রিয় নবী (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি এস্তেগফার করাকে সর্বদা গ্রহণ করে আল্লাহ তাকে সব সংকীর্ণতার মধ্যে উদ্ধারের পথ বের করে দেন, সব দুশ্চিন্তার ক্ষেত্রে মুক্তির পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন যা সে চিন্তাও করেনি।’ (আবু দাউদ ও আহমদ)।
১৫) এসতেগফার দ্বারা সকল গুনাহসমুহ মাফ হয়ে যায়।      "হজরত বিলাল ইবনে ইয়াসার ইবনে জায়েদ (রা.) (যিনি ছিলেন প্রিয় নবী (সা.) এর আজাদকৃত গোলাম) থেকে বর্ণিত, তিনি তার বাবা ও দাদা সূত্রে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি আসতাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইউল কাইউম ওয়া আতুবু ইলাইহি’ পড়ে তার সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়, এমনকি ধর্মযুদ্ধ থেকে পলায়নের গোনাহও ক্ষমা করে দেয়া হয়।” (তিরমিজি, মিশকাত)।
১৬) এসতেগফারের দ্বারা আল্লাহর আযাব ও আসে না।            কোরানের সুরা আনফালের ৩৩ নং আয়াত-
وَمَا كَانَ اللّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
   অথচ আল্লাহ কখনই তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে  অবস্থান করবেন। তাছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আল্লাহ কখনও  তাদের উপর আযাব দেবেন না। [ সুরা আনফাল ৮:৩৩ ]
১৭) গুনাহ নামক মারাত্মক রোগের ঔষদ হল এসতেগফার।
    "হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী (সা.) এরশাদ করেছেন, আমি কি তোমাদের জানাব না, তোমাদের রোগ কী এবং তার ওষুধ কী? তোমাদের রোগ হলো গোনাহ, আর ওষুধ হলো এস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা।" (বায়হাকি, আত-তারগিব)।
১৮) এসতেগফার শয়তানের বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষে একটি চ্যালেঞ্জ। 
      "হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘ইবলিস বলেছিল, তোমার প্রতাপের শপথ, তোমার বান্দাদের দেহে যতক্ষণ প্রাণ থাকবে, ততক্ষণ আমি তাদের বিপথগামী করতে থাকব। জবাবে আল্লাহ তায়ালা বলেছিলেন, আমার প্রতাপ ও মহিমার শপথ, তারা যতক্ষণ ক্ষমা চাইতে থাকবে, আমি তাদের ততক্ষণ ক্ষমা করতে থাকব।’ (আহমদ, হাকেম)।এছাড়াও এস্তেগফার পাঠের মাধ্যমে
(১৯) হৃদয় মুকুরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত হয়।
(২০) নেক কাজ করতে মনে চায়। 
(২১) গোনাহের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয়। 
(২২) হৃদয়-মন দারুণ প্রফুল্ল থাকে। 
(২৩) ইবাদতে একাগ্রতা তৈরি হয়। 
(২৪) বিপদাপদ থেকে আল্লাহ তায়ালা হেফাজত করেন। (২৫) এসতেগফার করার পর আল্লাহ তায়ালা বান্দার দোয়াও কবুল করেন।

তওবা কবুল হওয়ার কয়েকটি আলামত:
১. তওবার পরের জীবন তওবার আগের জীবনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হবে। 
২. গুনাহ করতে গেলেই আল্লাহতায়ালার ভয় জাগ্রত হবে। 
৩. মন গুনাহের কাজের প্রতি নিরাসক্ত হতে থাকবে।  গুনাহ করতে ভালো লাগবে না। 
৪. নেককাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে থাকবে। আমলে তৃপ্তি ও স্বাদ অনুভব হবে। 
৫. নেককার লোকদের সঙ্গে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের সোহবতে থাকতে ইচ্ছে করবে। 
        তওবা করার পর এই আলামতগুলো যদি আমাদের মধ্যে দেখতে পাই, তাহলে বুঝে নিব আল্লাহতায়ালা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। 

লেখক
মুফতি মুহাম্মদ আল-আমিন হানাফি
প্রভাষক (আরবি),হযরত শাহজালাল ফাযিল মাদরাসা
ওসমানীনগর, সিলেট।



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাসুল (সা:) জন্ম ও বংশ পরিচয়।

শাওয়াল মাসের ফযিলত

মাসবুকের নামাযের নিয়ম কি?