তাওবার গুরুত্ব

 তাওবার গুরুত্ব

মুফতি মুহাম্মদ আল-আমিন হানাফি

পর্ব-১

তাওবা অর্থ ফিরে আসা। ইসলামি শরিয়তে এর অর্থ অতীতের পাপ কাজের জন্য লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে আল্লাহর সন্তুষ্টির মধ্যে ফিরে আসা এবং ভবিষ্যতে তা না করার দৃঢ়সংকল্প করা। প্রকৃত তাৎপর্য হলো আন্তরিক অনুশোচনা। 

কোরআনের একটি পূর্ণাঙ্গ সুরার নামকরণ করা হয়েছে সুরা তওবা। এ ছাড়া সুরা নুর, সুরা তাহরিম, সুরা বাকারা, সুরা ফুরকানসহ কোরআনের আরও অনেক স্থানে তওবা এবং এর গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে।

★তওবার প্রকারঃ

১. ওয়াজিব তাওবাঃ

হারাম ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে ফিরে এসে তাওবা করা, আল্লাহর আদেশকৃত বিষয় ছেড়ে দেওয়ার অপরাধে তাওবা করা এবং প্রতিটি কবিরা-সগিরা, জানা-অজানা ও ইচ্ছা-অনিচ্ছায় করা অপরাধের জন্য তাওবা করা৷ সমস্ত মুমিন-মুসলমানের উপর তাৎক্ষণিকভাবে এসব তাওবা করা আবশ্যক। এই ব্যাপারে উম্মাহর ঐকমত্য কায়েম হয়েছে। ইমাম কুরতুবি (রঃ) তাফসিরে কুরতুবিতে এ নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেছেন।

২. মুস্তাহাব তাওবাঃ 

মুসতাহাব  কাজ ছেড়ে দিলে এবং মাকরুহ কাজে লিপ্ত হলে এই তাওবা করতে হয়।  

ইস্তিগফার অর্থ হলো ক্ষমা প্রার্থনা করা। সব সময় ইস্তিগফার পড়লে আল্লাহ ৫টি জিনিস দেন—১. বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, ২. টেনশনমুক্ত রাখেন, ৩. রিজিকের ব্যবস্থা করেন, ৪. কোনো আজাব দেন না, ৫. দোয়া করলে তা কবুল করেন। আসতাগফিরুল্লাহ হচ্ছে সবচেয়ে ছোট ইস্তিগফার। আসতাগফিরুল্লাহ পড়ার কারণে দোয়া কবুল হয়।

★বিশুদ্ধ তওবার শর্ত হলো—

১. জীবনে কৃত গুনাহর জন্য অনুশোচনা করা।

২. সেই গুনাহর জন্য আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

৩. ভবিষ্যতে এসব গুনাহ না করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়া।

       হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর মতে তাওবার শর্ত ৬টি।

১. অতীত মন্দকাজের জন্য অনুতাপ করা।

২. যে সকল ফরজ, ওয়াজিব, পরিত্যাগ করা হয়েছে তার কাযা আদায় করা।

৩. কারো ধন সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করে থাকলে তা ফিরিয়ে দেয়া।

৪. কাউকে হাত বা মুখ দ্বারা কষ্ট দিলে ক্ষমা চেয়ে নেয়া।

৫. ভবিষ্যতে সে পাপ কাজ না করার দৃঢ় সংকল্প করা।

৬. নিজেকে যেমন আল্লাহর নাফরমানিতে দেখেছে তেমনি নিজেকে আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য দেখা। উপরিউক্ত বিষয়াবলীর সমাবেশের নামই তাওবা।

★★★পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে-

১.সুরা তাহরিম, আয়াত: ৮

ا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا عَسَى رَبُّكُمْ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ يَوْمَ لَا يُخْزِي اللَّهُ النَّبِيَّ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ نُورُهُمْ يَسْعَى بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

"মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ তা’আলার কাছে তওবা কর-আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেদিন আল্লাহ নবী এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানদিকে ছুটোছুটি করবে। তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর সর্ব শক্তিমান।' [ সুরা তাহরীম ৬৬:৮ ]

২.সূরা হুদ: আয়াত- ৯০

وَاسْتَغْفِرُوْا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوْا اِلَيْهِ اِنَّ رَبِّيْ رحِيْمٌ وَدُوْدٌ-

"আর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার নিকট ক্ষমা চাও, অতঃপর তাঁরই দিকে ফিরে এসো। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অত্যন্ত মেহেরবান ও অতি স্নেহময়।"

৩.সূরা নূর: আয়াত-৩১

وَتُوْبُوْا اِلَى اللهِ جَمِيْعًا اَيُّهَا الْمؤمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ-

"হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তাওবা কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। "

৪.সুরা হুদঃ আয়াত-৩

وَأَنِ ٱسۡتَغۡفِرُوا۟ رَبَّكُمۡ ثُمَّ تُوبُوۤا۟ إِلَیۡهِ یُمَتِّعۡكُم مَّتَـٰعًا حَسَنًا إِلَىٰۤ أَجَلࣲ مُّسَمࣰّى وَیُؤۡتِ كُلَّ ذِی فَضۡلࣲ فَضۡلَهُۥۖ وَإِن تَوَلَّوۡا۟ فَإِنِّیۤ أَخَافُ عَلَیۡكُمۡ عَذَابَ یَوۡمࣲ كَبِیرٍ-

“তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তারই দিকে ফিরে আস। তিনি তোমাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর উত্তম জীবন দান করবেন এবং তিনি প্রত্যেক গুণীজনকে তার প্রাপ্য সম্মান দান করবেন, কিন্তু যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে মনে রেখ আমি তোমাদের উপর বিচার দিনের শাস্তির আশংকা করি”।

৫.সুরা হুদঃ আয়াত-৫২

وَیَـٰقَوۡمِ ٱسۡتَغۡفِرُوا۟ رَبَّكُمۡ ثُمَّ تُوبُوۤا۟ إِلَیۡهِ یُرۡسِلِ ٱلسَّمَاۤءَ عَلَیۡكُم مِّدۡرَارࣰا وَیَزِدۡكُمۡ قُوَّةً إِلَىٰ قُوَّتِكُمۡ وَلَا تَتَوَلَّوۡا۟ مُجۡرِمِینَ

“হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাঁর দিকেই ফিরে আস। ফলে তিনি তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষাবেন এবং তোমাদেরকে আরো শক্তি দিয়ে শক্তিধর করবেন, কাজেই তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিও না ।’

৬.সূরাঃ আন-নিসা, আয়াত নং- ১০৬

وَّ اسۡتَغۡفِرِ اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا-

"আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা পরম দয়ালু।"

৭.সুরা নিসা :আয়াত-১৭, ১৮

إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوَءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍ فَأُوْلَـئِكَ يَتُوبُ اللّهُ عَلَيْهِمْ وَكَانَ اللّهُ عَلِيماً حَكِيماً-وَ لَیۡسَتِ التَّوۡبَۃُ لِلَّذِیۡنَ یَعۡمَلُوۡنَ السَّیِّاٰتِ ۚ حَتّٰۤی اِذَا حَضَرَ اَحَدَہُمُ الۡمَوۡتُ قَالَ اِنِّیۡ تُبۡتُ الۡـٰٔنَ وَ لَا الَّذِیۡنَ یَمُوۡتُوۡنَ وَ ہُمۡ کُفَّارٌ ؕ اُولٰٓئِکَ اَعۡتَدۡنَا لَہُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمًا-

"অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ। তাওবাহ্ তাদের জন্য নয় যারা আজীবন মন্দ কাজ করে, অবশেষে তাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হলে সে বলে, ‘আমি এখন তাওবাহ করছি’ এবং তাদের জন্যও নয়, যাদের মৃত্যু হয় কাফের অবস্থায়। এরাই তারা যাদের জন্য আমরা কষ্টদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করেছি।"

৮.সুরা আলে ইমরানঃ আয়াত-১৩৫

وَٱلَّذِینَ إِذَا فَعَلُوا۟ فَـٰحِشَةً أَوۡ ظَلَمُوۤا۟ أَنفُسَهُمۡ ذَكَرُوا۟ ٱللَّهَ فَٱسۡتَغۡفَرُوا۟ لِذُنُوبِهِمۡ وَمَن یَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ إِلَّا ٱللَّهُ وَلَمۡ یُصِرُّوا۟ عَلَىٰ مَا فَعَلُوا۟ وَهُمۡ یَعۡلَمُونَ-

“আর যারা অন্যায়-অপরাধ বা নিজেদের উপর জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। কারন আল্লাহ ছাড়া আর কে-ই বা পাপ ক্ষমা করবে? তারা একবার কোন অপরাধ করে ফেললে জেনে শুনে তা পুনরায় আর করে না। “

৯.সূরা আন-নাহাল, আয়াত নং- ১১৯

ثُمَّ اِنَّ رَبَّکَ لِلَّذِیۡنَ عَمِلُوا السُّوۡٓءَ بِجَہَالَۃٍ ثُمَّ تَابُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِکَ وَ اَصۡلَحُوۡۤا ۙ اِنَّ رَبَّکَ مِنۡۢ بَعۡدِہَا لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ-

"যারা অজ্ঞতাবশত মন্দকাজ করে, তারা পরে তওবা করলে ও নিজেদেরকে সংশোধন করলে তাদের জন্য আপনার রব অবশ্যই অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"

        তাওবা কেবলমাত্র মুমিনদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং কোন অমুসলিমও চাইলে ইসলাম গ্রহণপূর্বক তাওবা করে আল্লাহর পথে ফিরে আসতে পারে।  তখন মহান আল্লাহ তার পূর্ববর্তী জীবনের সমস্ত পাপ মোচন করে দেবনে। তাই তাওবার দরজা সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

১০.সুরা আল-ফুরকানঃআয়াত- ৭০

إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلࣰا صَـٰلِحࣰا فَأُو۟لَـٰۤىِٕكَ یُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَیِّـَٔاتِهِمۡ حَسَنَـٰتࣲۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورࣰا رَّحِیمࣰا-

“যারা তাওবা করে, ঈমান আনয়ন ও সৎকাজ করে, তাদের অপরাধ সমূহ আল্লাহ সওয়াব দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। কেননা আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"

১১.সুরা মারিয়ামঃ আয়াত-৬০

إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ صَـٰلِحࣰا فَأُو۟لَـٰۤىِٕكَ یَدۡخُلُونَ ٱلۡجَنَّةَ وَلَا یُظۡلَمُونَ شَیۡـࣰٔا-

"কিন্তু যারা তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকাজ করে। তারা তো জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর তাদের প্রতি কোন প্রকার জুলুম হবে না।"

১২.সুরা বাকারা :আয়ত-১৬০ 

إِلاَّ الَّذِينَ تَابُواْ وَأَصْلَحُواْ وَبَيَّنُواْ فَأُوْلَـئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ-

"তবে যারা তওবা করে এবং বর্ণিত তথ্যাদির সংশোধন করে মানুষের কাছে তা বর্ণনা করে দেয়, সে সমস্ত লোকের তওবা আমি কবুল করি এবং আমি তওবা কবুলকারী পরম দয়ালু। 

১৩.সুরা ফুরকান :আয়াত-৭১ 

وَمَن تَابَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَإِنَّهُ يَتُوبُ إِلَى اللَّهِ مَتَابًا-

"যে তওবা করে ও সৎকর্ম করে, সে ফিরে আসার স্থান আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। "

১৪.সূরা আল-কাসাস, আয়াত নং- ৬৭

فَاَمَّا مَنۡ تَابَ وَ اٰمَنَ وَ عَمِلَ صَالِحًا فَعَسٰۤی اَنۡ یَّکُوۡنَ مِنَ الۡمُفۡلِحِیۡنَ -

"তবে যে ব্যক্তি তাওবা করেছিল এবং ঈমান এনেছিল ও সৎকাজ করেছিল, আশা করা যায় সে সাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"

১৫.সুরা আল-বাকারাঃ আয়াত-২২২

 إِنَّ الله يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ-

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন”। 

১৬.সূরা আয-যুমার, আয়াত নং- ৫৩

قُلۡ یٰعِبَادِیَ الَّذِیۡنَ اَسۡرَفُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ لَا تَقۡنَطُوۡا مِنۡ رَّحۡمَۃِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَغۡفِرُ الذُّنُوۡبَ جَمِیۡعًا ؕ اِنَّہٗ ہُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ-

"বলুন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ; আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ থেকে হতাশ হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (চলবে)


মন্তব্যসমূহ

  1. লেখক:
    মুফতি মুহাম্মদ আল-আমিন হানাফি
    প্রভাষক (আরবি),
    হযরত শাহজালাল (রহ) ফাযিল মাদরাসা
    গোয়ালাবাজার,ওসমানীনগর, সিলেট।
    মোবা:০১৭৪৬৪৬৮৩৭৭
    email:alaminangarjur@gmail.com

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাসুল (সা:) জন্ম ও বংশ পরিচয়।

শাওয়াল মাসের ফযিলত

মাসবুকের নামাযের নিয়ম কি?