সাদকার গুরুত্ব ও তাৎপর্য

 

ইসলামের দৃষ্টিতে সাদকা
মুফতি মুহাম্মদ আল-আমিন হানাফি

সাধারণ অর্থে দান করাকেই সাদকা বলে। পরিভাষায় সাদকা বলা হয়, একমাত্র আল্লাহ তা'য়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করার লক্ষ্যে স্বীয় সম্পদ ব্যয় করা। সাদকা প্রধানত দুই প্রকার। (ক) সাধারণ সাদকা (খ) সাদকায়ে জারিয়া। যথা- মসজিদ, মাদরাসা, রাস্তা, পুল, পানির কূপ ও নেক সন্তান,ইত্যাদি জন কল্যাণমূলক কাজ করা। (ক)সাধারণ সাদকা আবার চার প্রকার। যথা-(১) ফরজ সাদকা। যথা- যাকাত। (২) ওয়াজিব সাদকা। যথা- সাদকাতুল ফিতর, কুরবানী, মান্নতের বস্তুু। (৩)সুন্নাত সাদকা। যথা- আকিকা করা, ৭/১৪ পর নবজাতকের মাথার চুল ও নখ কেঁ
টে এর সমপরিমান স্বর্ণ রৌপ্য সদকা করা, অতিথিকে খাওয়ানো। (৪) নফল সাদকা। যথা-সেচ্ছায় কোন কিছু দান করা। এ সাদকা যে কোন সময় দেয়া যায়। সাদকার আদব হচ্ছে- ১. আল্লাহর জন্য ইখলাস ঐকান্তিকতা। ২. সদকাগ্রহীতাকে খোঁটা ও কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা।
৩. যে সকল আত্মীয়-স্বজন অভাবী, তাদেরকে সাদকা দেয়া। ৪.সম্পদের হালাল ও ভালো অংশ এবং ব্যক্তির কাছে যা প্রিয় তা বেঁছে নেয়া। ৫. সংগোপনে সাদকা প্রদান করা। ৬. সামর্থ্যানুযায়ী সাদকা করা, হোক তা সামান্য। সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে সাদকার অনেক উপকারিতা রয়েছে। ১- আত্মার পরিশুদ্ধি হয়। ২ - নবী সা: অনুসরণ হয়। ৩ - মানুষের আত্মোন্নতি ঘটে।  ৪. সম্পদকে পবিত্র করা। ৫ - ছাওয়াব অর্জন হয়। ৬-গুনাহের কাফফারা হয়। ৬ - মৃত্যুর পর সাদকায়ে জারিয়ার দ্বারা মুসলমানের উপকার লাভ। ৭- যাকাতের সাদকা সামাজিক মিশনকে পূর্ণতা দান করে। ৮- সমাজে পারিস্পরিক সহায়তা, সহযোগিতা, স্থিতিশীলতা ও মিল-মহব্বত কায়েম করে। সাদকার উপকারীতা সম্পর্কে আল্লাহ তা'য়লা বলেন-যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন-"কে আছে, যে আল্লহকে উত্তম ঋণ দেবে, ফলে তিনি তার জন্য বহুগুণে বাড়িয়ে দেবেন। [সূরা আল বাকারা:২৪৫] আল্লহ ত'য়লা আন্যত্র বলেন- "যারা নিজেদের ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের উপমা একটি বীজের মত, যা সাতটি শীষ উৎপাদন করে, প্রত্যেক শীষে একশ শস্যদানা। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেন। আর আল্লাহ সর্বব্যাপী প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।"[সুর বাকারা-২৬১] আল্লাহ তা'য়লা আরো বলেন-"হে মুমিনগণ! আমরা যা তোমাদেরকে দিয়েছি তা থেকে তোমরা ব্যয় কর সেদিন আসার পূর্বে, যেদিন বেচা-কেনা, বন্ধুত্ব ও সুপারিশ থাকবে না, আর কাফেররাই যালিম।"[সুরা বাকারা ২৫৬] হাদিস শরীফে রাসুল (সা:) বলেন-"কাআব ইবনে উজরা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সা.বলেন, সদকা পাপ নিভিয়ে দেয় যেভাবে পানি আগুন নেভায়।’[ তিরমিযী] রাসুল (সা:) আরো বলেন "আবূ মালিক হারিস ইবনু ‘আসেম আশ‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত,রাসুল সা: বলেন, ‘‘পবিত্রতা অর্ধেক ঈমান। আর ‘আলহামদু লিল্লাহ’ (কিয়ামতে নেকীর) দাঁড়িপাল্লাকে ভরে দেবে এবং ‘সুবহানাল্লাহ’ ও ‘আলহামদু লিল্লাহ’ আসমান ও যমীনের মধ্যস্থিত শূন্যতা পূর্ণ করে দেয়। নামায হচ্ছে জ্যোতি। সাদকাহ হচ্ছে প্রমাণ। ধৈর্য হল আলো। আর কুরআন তোমার স্বপক্ষে অথবা বিপক্ষে দলীল। প্রত্যেক ব্যক্তি সকাল সকাল সবকর্মে বের হয় এবং তার আত্মার ব্যবসা করে। অতঃপর সে তাকে (শাস্তি থেকে) মুক্ত করে অথবা তাকে (আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত ক’রে) বিনাশ করে।’’
[সহীহুল বুখারী ২২৩] "আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,এক ব্যক্তি নবী (সা:)এর কাছে এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! কোন্ সাদকাহ নেকীর দিক দিয়ে বড়?’ তিনি বললেন, ‘‘তোমার সে সময়ের সাদকাহ করা (বৃহত্তম নেকীর কাজ) যখন তুমি সুস্থ থাকবে, মালের লোভ অন্তরে থাকবে, তুমি দরিদ্রতার ভয় করবে এবং ধন-দৌলতের আশা রাখবে। আর তুমি সাদকাহ করতে বিলম্ব করো না। পরিশেষে যখন তোমার প্রাণ কণ্ঠাগত হবে, তখন বলবে, ‘অমুকের জন্য এত, অমুকের জন্য এত। অথচ তা অমুকের (উত্তরাধিকারীর) হয়েই গেছে।’’ [বুখারী] যারা সাদকার হকদার তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'য়লা জানিয়ে দেন। "সদকা তো শুধু ফকীর, মিসকীন ও সদাকা আদায়ের কাজে নিযুক্ত কর্মচারীদের জন্য, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য, দাসমুক্তিতে, ঋণ ভারাক্রান্তদের জন্য, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়ত।"[ সুরা তাওবা -৬০] আল্লাহ তা'য়লা আমাদেরকে এ মহৎ কাজ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: মুফতি মুহাম্মদ আল-আমিন হানাফি
প্রভাষক (আরবি),
হযরত শাহজালাল (রহ) ফাযিল মাদরাসা
গোয়ালাবাজার,ওসমানীনগর, সিলেট।
মোবা:০১৭৪৬৪৬৮৩৭৭
email:alaminangarjur@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাসুল (সা:) জন্ম ও বংশ পরিচয়।

শাওয়াল মাসের ফযিলত

মাসবুকের নামাযের নিয়ম কি?